Search This Blog

Saturday, February 18, 2017

কম্পিউটার /আধুনিক প্রযুক্তির আবিষ্কার- কম্পিউটার /কম্পিউটার ও আধুনিক বিশ্ব /আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে কম্পিউটার /কম্পিউটার: আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় /কম্পিউটার ও বাংলাদেশ/ কম্পিউটা ও আধুনিক সভ্যতা

কম্পিউটার /আধুনিক প্রযুক্তির আবিষ্কার- কম্পিউটার /কম্পিউটার ও আধুনিক বিশ্ব /আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিতে কম্পিউটার /কম্পিউটার: আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় /কম্পিউটার ও বাংলাদেশ/ কম্পিউটা ও আধুনিক সভ্যতা

ভূমিকা
কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কার করলেন স্পেনের রানী তা জানতে পেরেছিলেন তিন মাস পর। আর চাঁদের মাটিতে মানুষের পদার্পণ মানুষ সরাসরি স্বচক্ষে দর্শন করল টেলিভিশন মনিটরে। কি বিস্ময়কর আবিষ্কার বিজ্ঞানের।
যে প্রকৃতির হাতে মানুষ ছিল খেলার পুতুল, প্রকৃতির বিরুদ্ধ শক্তির সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে মানুষকে সংগ্রাম করে চলতে হয়েছে, সেই প্রকৃতির অন্ধশক্তির ওপর জয়ী হওয়ার প্রয়োজনেই একদিন সৃষ্টি হয়েছিল বিজ্ঞানের। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনীষীবৃন্দ মানুষের কল্যাণের জন্য ডুব দিয়েছিলেন প্রকৃতির অতলান্ত রহস্য সাগরে। সেই রহস্যাবরণ উন্মোচন করে
মানুষের প্রতিভা আবিষ্কার করেছে প্রকৃতির কত গোপন সম্পদ ও শক্তি। জলে-স্থলে নভোনীলে মানুষের আজ অপ্রতিহত গতি। বর্বর জীবনকে পশ্চাতে ধাওয়া করে বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ আজ সভ্যতার আলোকে আলোকিত ও সম্পদশালী। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, মনের চিন্তাধারা, জীবনের স্বপ্ন ও কল্পনার, আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে বিজ্ঞান। আর এই যান্ত্রিক সভ্যতার আধুনিকতম, বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার
কম্পিউটারের পরিচয়
ল্যাটিন Compuair শব্দ হতে Compuair শব্দটির আগমন। Compuair শব্দের অর্থ গণনা করা। অর্থাৎ Compuair শব্দের অর্থ গণনাকারী। আর সাধারণভাবে যেকোনো গণনাযন্ত্রকে Compuair বলে। তবে সাম্প্রতিককালে এর পরিচয় সুনির্দিষ্ট। আজকের দিনে কম্পিউটার বলতে বুঝায় Electronics নির্ভর এমন একটি তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র যার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় এবং বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা গ্রহণ ও সংরক্ষণ করে অতি দ্রুত যেকোনো সমস্যা নিখুঁতভাবে সমাধান করা যায়। কম্পিউটার ফ্রেইমের ওপর সুইচ ও বাল্ব বা ট্রানজিস্টার থাকে। ফ্রেইমের বিভিন্ন অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: টাইপ রাইটার, কার্ড রিডার ইত্যাদি। এই অংশগুলিকে তার দিয়ে সংযুক্ত করে গণনামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এবং এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে  কম্পিউটার বলে।
আবিষ্কার ও ক্রমোন্নয়ন
কম্পিউটার কোনো ব্যক্তি বিশেষের আবিষ্কার নয়-বিগত দেড়শ বছরের অধিককাল ধরে বহু বিজ্ঞানীর শ্রমসাধনা আর চিন্তার ফল। যোগ-বিয়োগের কার্যক্ষমতাসম্পন্ন যান্ত্রিক গণনাযন্ত্র ১৬৪২ সালে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ব্লেইজি পাসক্যালে। ১৬৭১ সালে গওফ্রাইভ লেবনিজ প্রথম গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতি ১৯১২ সালে চার্লস ব্যাবেজ পরিকল্পনা করেন। কম্পিউটার আবিষ্কারে সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় ব্যক্তি এই চার্লস ব্যাবেজ। তিনি ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে একটি অটোমেটিক ম্যাকনিকেল ক্যালকুলেটর গড়ার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হন। ১৯৩০ সালের মধ্যে চেপে ছাপ দেয়াবা ছিদ্র করার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পৃথিবীর বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে চালু হয়। ১৯৩৭ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওয়ার্ড আইকন নামে এক ব্যক্তি IBMF  কোম্পানির কাছে এমন একটি যন্ত্র নির্মাণ করার প্রস্তাব রাখেন যে যা আপনার থেকে নিজের ক্রিয়াকার্য নিয়ন্ত্রণ করবে এবং গণনার কাজও করবে।  অতঃপর ১৯৪৪ সালে হার্ভাড ও IBMF  এর যৌথ সহযোগিতায় প্রথম ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটার ‘Universal Computer’ বা Mark-1 আবিষ্কৃত হলো। এই থেকে ফাস্ট জেনারেশন কম্পিউটারের ভূমিকা। বিশালাকৃতির এসব কম্পিউটার থাকত টিউবে  আর সর্বোপরি এদের রাখা হত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। ফার্স্ট জেনারেশন কম্পিউটারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিল IBM- 650 কারণ এর মধ্যে Magnetic Drum memory ব্যবহার করা হয়।
দ্বিতীয় জেনারেশন
সেকেন্ড জেনারেশন কম্পিউটারের মধ্যে ট্রানজিস্টার স্থান পেল। সর্বপ্রথম IBM-1401 কম্পিউটারে ভ্যাকিউয়াম টিউবের বদলে ট্রানজিস্টার ব্যবহার করা হয়। এদের সার্কিট ফাস্ট জেনারেশনের তুলনায় অনেক ছোট। এছাড়া এরা তাপ বিকিরণ করত প্রথমোক্তদের তুলনায় পরিমাণে অনেক কম। এদের পরিচালনা করতে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির প্রয়োজন হয়। সর্বোপরি এদের কাছ থেকে অতি দ্রুত কাজ পাওয়া যেত।
থার্ড জেনারেশন: থার্ড জেনারেশন কম্পিউটারের ক্ষুদ্রাকার সিলিকন বাক্সে ইলটিগ্রেটেড সার্কিট ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। IC চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটারের নাম IB System-360 এরা দামের দিক থেকে সস্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে অনেক বেশি অগ্রসর।
ফোর্থ জেনারেশন
এরপর ১৯৭০ সালে এল ফোর্থ জেনারেশন কম্পিউটার। নতুন যুগের উন্নত ধরনের ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তি। বিজ্ঞানের সহায়তায় এদের পূর্বসূরিদের তুলনায় আরো দ্রুত ও ক্ষুদ্রাকৃতি করে তৈরি করা সম্ভব হয়।
ফিফথ জেনারেশন
এর এক দশক পরে ১৯৮০ সালে শুরু হল ফিফথ জেনারেশন কম্পিউটারের প্রয়োগ। পরিকল্পনা বা ব্যবস্থাপনার কাজে এদের ব্যাপক ব্যবহার চলতে থাকে। দেখতে দেখতে সৃষ্টি হয় এমন এক শ্রেণির পরিচালক যারা কম্পিউটারের প্রয়োগ সম্পর্কিত কলা-কৌশল অধিগত করে যন্ত্রটিকে দৈনন্দিন জীবনে সাফল্যের সাথে প্রয়োগ করেন। তাদের কর্মদক্ষতায় কম্পিউটার জগতে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
কম্পিউটার জগতে নতুনত্ব
১৯৮৯ সালের গোড়ার দিকে হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আলোর সাহায্যে পরিচালিত কম্পিউটার আবিষ্কার করেন। এদের বলা হয় Optechnical Computerএ কম্পিউটার বিদ্যুৎচালিত কম্পিউটারের তুলনায় অধিকতর শক্তিশালী ও দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। এছাড়া বিজ্ঞানীরা বর্তমানে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানে ও মহাশূন্যে উপগ্রহ প্রেরণে ব্যবহার করছেন সুপার কম্পিউটার নামে এক বিস্ময়কর কম্পিউটার।
কম্পিউটারের গঠন প্রণালি
কম্পিউটার মূলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। Hardware বা যান্ত্রিক সরঞ্জাম এবং Software বা প্রোগ্রাম সরঞ্জাম। Input Device, Storage Device, Contract processing Unit বা CPP এবং Out Device নিয়ে Hardware গঠিত। Input Device-এর মাধ্যমে প্রোগ্রাম স্টেটমেন্ট ও ডাটা সরবরাহ করা হয়। কী বোর্ড, স্পেপার মাউস প্রভৃতি Input Device  হিসেবে কাজ করে। Storage Device-এর মাধ্যমে তথ্যসমূহ কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। CPU-কে কম্পিউটারের প্রাণ বলা যেতে পারে। এই অংশটি তুলনা করে, হিসেব করে সিদ্ধান্ত নেয়। Output বলতে ঠিক Input Device -এর মতোই মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যকার যোগাযোগ স্থাপনের কিছু উপকরণকে বুঝায়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কম্পিউটার প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা হিসেবগুলি সবাইকে জানবার উপযোগী করে রেকর্ড করা হয়। কম্পিউটারের যান্ত্রিক সরঞ্জাম একটি সুপ্ত কর্মদক্ষতা এবং একে কাজে লাগানোর জন্য প্রোগ্রাম দরকার।
কম্পিউটারকে নানা শ্রেণিতে নানা দিক দিয়ে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। Data গ্রহণ ও সাজানোর দিক দিয়ে একে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা: এনালগ কম্পিউটার ও ডিজিটাল কম্পিউটার।
কম্পিউটার-এক বিস্ময়
কম্পিউটার-এই অদ্ভুত যন্ত্র বর্তমান বিশ্বে নবজাগরণের চেতনা বইয়ে দিচ্ছে। মানবজীবন আর বহির্বিশ্বের হাজারো অলিগলির সন্ধানে সর্বদা পরিব্যপ্ত এই কম্পিউটার। নিম্নে এর বিস্ময়সৃষ্টিকারী কর্মগুলো বিবৃত হলো:
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার
উন্নত বিশ্বে কম্পিউটারের বিকাশ ঘটেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন জোয়ার এসেছে। অধিকাংশ স্কুলেই এবং প্রায় সব স্কুলেই কম্পিউটারের সাহায্যে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিকভাবে তা প্রদর্শন সম্ভব হয়। এছাড়া বিভিন্ন বই পুস্তক সহজে অতি দ্রুত প্রস্তুতে এর ব্যবহার লক্ষণীয়।
ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে কম্পিউটার
কম্পিউটার সবচেয়ে দ্রুতগতিতে প্রসার ঘটেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে ও শিল্পক্ষেত্রে। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যকে লাভজনক করার নানা প্রয়াসে এবং শিল্প কারখানায় লোকজনের পরিবর্তে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় যাতে উন্নত দেশসমূহে শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
মহাকাশ অভিযান ও গবেষণায় কম্পিউটার
মহাকাশ অভিযানের অনন্ত পিপাসাকে মেটাতে এগিয়ে এসেছে কম্পিউটার। দূরের গ্রহে নবজীবনের সন্ধানে যে ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২ পাঠানো হয়েছে তা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কম্পিউটারের মাধ্যমেই। বেশ কয়েকদিন আগে বৃহস্পতির ওপর সুমেকার লেভি-লাইন এর পতনের আগাম পূর্বাভাস দিয়েছিল এই কম্পিউটারই। এর ছবিও তুলেছিল কম্পিউটার। চাঁদসহ যেসকল গ্রহে মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে, প্রত্যেকটিই ছিল কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণে।
বেকারত্ব বৃদ্ধি ও যান্ত্রিকতার অশুভ প্রভাব: গ্রহের বিস্ময়সৃষ্টিকারী কম্পিউটার বর্তমানে এক নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দেশে কম্পিউটারের কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বহুদূর
উপসংহার
আধুনিক জীবন ও বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কম্পিউটার মানুষের জন্য যে বিস্ময় বয়ে এনেছে তা থেকেই বয়ে আনতে হবে কল্যাণ ও সমৃদ্ধি। এবং যে দেশে কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে সে দেশের বাস্তব অবস্থা স্বীকার করেই এর প্রয়োগক্ষেত্র নির্বাচন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই খুঁজে পেতে হবে অধিক কর্মসংস্থানের নতুনতর উপায়। আমাদের সমস্যা সংকুল দেশে কম্পিউটার হয়ত অন্ধকার হতে আলোকোদ্ভাসিত পথ দেখাবে। দেশে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাজেট প্রণয়ন তথা আর্থ-সামাজিক, কারিগরি শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা উত্তরণে আমাদের দিক নির্দেশনা দিতে পারে কম্পিউটার। শতাব্দীর এই বিস্ময়কর আবিষ্কারই আজ বলে দেবে কোন পথে আমাদের সার্থকতা আর তাই এর সুফল লাভে আমাদের হতে হবে সদা তৎপর।


No comments:

Post a Comment