Search This Blog

Saturday, February 18, 2017

‘সুন্দরবনের প্রাণী’

সুন্দরবনের প্রাণী

ভূমিকা
সুন্দরবন আমাদের জাতীয় বন। পৃথিবীর আশ্চর্যনিদর্শনের মধ্যে অন্যতম। আর এ বনের প্রাণীগুলো আরও আশ্চর্য রকমের। এই বনে যেমন রয়েছে সুন্দর গাছগাছালি, পশুপাখি তেমনি রয়েছে আমাদের জাতীয় পশু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারসহ অনেক সুন্দর ও ভয়ংকর প্রাণী। এই বনকে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়। সুন্দরবনে সুন্দরী নামে একপ্রকার গাছ বেশি দেখা যায় বলে এই বনের নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন
সুন্দরবনের অবস্থান
সুন্দরবন বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কোল জুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। সুন্দরবনের উত্তরে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও দাকোপ, বাগেরহাট জেলার মংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা অবস্থিত। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতে চব্বিশ পরগনায় সুন্দরবন অবিস্থত।
সুন্দরবনের আয়তন
সুন্দরবনের মোট দৈর্ঘ্য ২৯০ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে প্রস্থে ১২৯ কিলোমিটার। সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৪.২ শতাংশ ও বনভূমির ৪৪ শতাংশ। 
সুন্দরবনের বৃক্ষসম্পদ
বাংলাদেশের বনজ সম্পদের সবচে বড় হলো সুন্দরবন। এখানে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, ধুন্দুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সম্পদ রয়েছে। সুন্দরবনে প্রচুর মৌচাক রয়েছে। মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।  
সুন্দরবনের প্রাণী
সুন্দরবনে প্রচুর  বন্যপ্রাণী রয়েছে যা বাংলাদেশের সম্পদ। এবনে পশুর মধ্যে রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, বানর, শেয়াল, খেঁকশেয়াল, হরিণ, ডলফিন, মায়াহরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বাদুর, চিতা, ডোরাবাঘ, মেছোবাঘ, বিড়াল, বনবিড়াল, বেজি, চিকা, চামচিকা, ইঁদুর, উদ, শুশুক, সজারু, বন্যশুকর, ভোঁদড় প্রভৃতি। এসব জীববৈচিত্র্য প্রাণীর মধ্যে কেউ স্তন্যপায়ী, কেউ সরীসৃপ, কেউ উভচর শ্রেণিভুক্ত আবার কেউ আকাশে উড়ে বেড়ায় বা পানিতে বসবাস করে। এছাড়া পাখির মধ্যে কুল্যা, চিল, চাতক, বক, কাক, মাছাল, শালিক, মাছরাঙা, মদনটাক, শ্যামকোল, মানিক, গয়াল, বালিহাঁস, বনমুকুট, ঘুঘু, দোয়েল, হলদে পাখি, ফিঙে, দুধরাজ, রক্তরাজ, ভীমরাজ অন্যতম। সুন্দরবন ঘেষে যেসব নদী রয়েছে তাতে ইলিশ, বাগদা, গলদা, ভেটকি, পাঙাশ, ছুরি, লইট্যা, বাইন, লাক্কা, ফাঁসা, ফেসা, রূপচান্দা, কোমা, চিত্রা দাঁতিনা, পাগলাগাতি, পোটকা, চেলা, কংকলম, হাঙর, তারিয়াল, কাইকা, টেংরা, রয়না, তপসে, বাটা, উড়াল প্রভৃতি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। হরিণ সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য প্রাণীগুলোর মধ্যে অন্যতম নিরীহ ও তৃণভোজী প্রাণী। সুন্দরবনের প্রচুর বানর রয়েছে।
সুন্দরবনের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী
একসময় নানারকম প্রাণী দিয়ে সুন্দরবন ভরপুর ছিল। শিকারিদের অত্যাচার, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাতি, গণ্ডার, বাঘ, হরিণ, বানর, শকুন, চিতাবাঘ, ওলবাঘ, বাঘদাসা আজ বিলুপ্তপ্রায়। গণ্ডারের মাথায় লোম দ্বারা আবৃত একটি শিং থাকে। গণ্ডার ত্রিশ থেকে চল্লিশ মাইল বেগে ছুটতে পারে।
সুন্দরবনের উপকারিতা
সুন্দরবন আমাদের অনেক উপকার করে থাকে। সুন্দরবন আমাদের দেশবিদেশ থেকে খ্যাতি এনে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। এবং অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সহায়তা করছে। 
আমাদের দায়িত্ব
একটি বনের জন্য সবপ্রাণীই প্রয়োজন। এ ব্যাপারে শুধু পরিবেশ বিজ্ঞানী বা সরকার নয় আমাদেরও সতর্ক হবে, নিতে হবে প্রাণী রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ।
উপসংহার
প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ জীববৈচিত্র্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। সুন্দরবনের বিস্ময়কর জীবজন্তু ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রাণিজগৎ বিলুপ্ত হয়ে গেলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।


No comments:

Post a Comment