Search This Blog

Sunday, March 19, 2017

PSC Bangla p4

বাংলা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বিশেষ প্রস্তুতি -

বাংলা ১৫ নম্বর প্রশ্ন
রচনা লেখো: যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন
প্রিয় পরীক্ষার্থী, বাংলা বিষয়ের ১৫ নম্বর প্রশ্ন থাকবে রচনা লেখার ওপর। প্রশ্নটি হবে যোগ্যতাভিত্তিক। রচনা থাকবে চারটি; এর মধ্যে একটির উত্তর লিখতে হবে। রচনায় ইঙ্গিত দেওয়া থাকবে। অনুশীলনের সুবিধার্থে আজ একটি রচনার নমুনা দেওয়া হলো।
বাংলাদেশের পাখি/আমার চেনা পাখি/কয়েকটি পরিচিত পাখি
(সংকেত: ভূমিকা, পরিচিত পাখির বর্ণনা, উপসংহার।)
ভূমিকা
বাংলাদেশের অপরূপ প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার পাখি। এ দেশের মানুষ পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে আবার পাখির ডাকে জাগে। বিভিন্ন ঋতুতে বাংলাদেশে নানা রকম পাখি দেখা যায়।
আমার চেনা পাখি পাখি
আমার চেনাজানা পাখির সংখ্যা অনেক। দোয়েল, কোকিল, ময়না, টিয়া, কাক, পায়রা, চিল, মাছরাঙা, কাকাতুয়া, বাবুই, কাঠঠোকরা, চড়ুই, টুনটুনি, বুলবুলি, বউ কথা কও, শালিক, ঘুঘু, বকএসব আমাদের খুব
পরিচিত পাখি।
কয়েকটি পরিচিত পাখি
পাখি অনেক রকমের আছেএদের মধ্যে গানের পাখি, শিকারি পাখি, রাতের পাখি, ঝিল পুকুরের পাখি, শীতের পাখি ও পোষা পাখি উল্লেখযোগ্য।
গানের পাখি
গানের পাখির মধ্যে অন্যতম দোয়েল। গরমের দিনে ঘরের পাশে, লেবুর ডালে, ডালিম শাখায় দোয়েল মনের সুখে গান করে। দোয়েলের মতো গানের গলা খুব কম পাখিরই আছে। শীতের সময় দোয়েল গান করে না। দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। শীতের শেষে বসন্ত ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কোকিল। তাই কোকিলকে বলা হয় বসন্তের দূত। দেখতে কালো হলেও কোকিলের গানের গলা খুবই মিষ্টি। কোকিলের কুউ কুউডাক গানের চেয়েও মধুর। কোকিল কখনো মাটিতে নামে না।
গানের পাখির মধ্যে সবচেয়ে ছোট টুনটুনি। দেখতে ছোট হলেও টুনটুনির গানের গলা বেশ মিষ্টি আর জোরালো। টুনটুনি বেশিক্ষণ উড়ে বেড়াতে পারে না। তবে লম্বা লেজ উঁচিয়ে গাছের এ-ডাল থেকে ও-ডালে বেশ দ্রুত লাফিয়ে বেড়াতে পারে।
শ্যামা, বুলবুলি, বউ কথা কওএরাও খুব সুন্দর গানের পাখি।
শিকারি পাখি
মাছরাঙা, বাজপাখি, শকুন, চিল, বকএসব শিকারি পাখি। মাছরাঙা পুকুরপাড়ে মাটির গর্তে বাস করে আর সুযোগ বুঝে পানিতে টুপ করে ডুব দিয়ে ছোট মাছ ধরে খায়। বাজ আর চিল আকাশের অনেক উঁচুতে উড়ে বেড়ালেও দৃষ্টি থাকে নিচে। সুযোগমতো এরাও ছোঁ মেরে মুরগির ছানা ও অন্যান্য ছোট প্রাণী নিয়ে গাছের ডালে বসে খায়। বক দল বেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ায়, আবার খাওয়ার সময় হলে ঝিল-পুকুরের পাড়ে বসে মাছ ধরে খায়।
রাতের পাখি
পেঁচা আর বাদুড় রাতের পাখি। এরা দিনের বেলায় বের হয় না। পেঁচা বিভিন্ন পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে থাকে। বাদুড় গাছের ফল খায়।
ঝিল-পুকুরের পাখি
পানকৌড়ি, হাঁস, সারস, কোঁড়াএসব ঝিল-পুকুরের পাখি। এরা শামুক, ছোট মাছ ও জলের পোকামাকড় খেয়ে থাকে।
পোষা পাখি
ময়না, টিয়া, কাকাতুয়া, শ্যামা, শালিক, ঘুঘু পায়রাএসব পাখি ঘরে পোষা যায়। পোষা পাখির মধ্যে ময়না সবচেয়ে মজার পাখি। শিখিয়ে দিলে পোষা ময়না মানুষের মতো কথা বলতে পারে এবং মানুষের অনুকরণে নানা রকম শব্দ ও গান করতে পারে। ময়না কালো রঙের পাখি, তবে গলার কাছে একটি হলদে রেখা থাকে। টিয়া পাখির পালক হলদে শ্যামল, ঠোঁট লাল রঙের। শালিক, ঘুঘু ও কবুতর খুবই নিরীহ পাখি।
গৃহপালিত পাখি
মুরগি, হাঁস গৃহপালিত পাখি। এসব পাখি বাংলাদেশের প্রায় ঘরে দেখতে পাওয়া যায়। হাঁস ও মুরগির ডিম আমাদের খুবই প্রিয় খাবার।
উপসংহার
পাখি বাংলাদেশের প্রকৃতির এক মূল্যবান সম্পদ, শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও পাখির ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রয়োজনেই পাখিসম্পদ সংরক্ষণ করা উচিত। অকারণে কখনো পাখি শিকার করা ঠিক নয়।
সিনিয়র শিক্ষক,
আন-নাফ গ্রিন মডেল স্কুল, ঢাকা

No comments:

Post a Comment